Ramadan LanternsRamadan Lanterns

ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ: কেন এটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন পথ

Department UpdatesFebruary 25, 202625 views
ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ: কেন এটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন পথ
ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ কী, কেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এতে আগ্রহী এবং কীভাবে এটি সমাজ ও ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রাখে?

বর্তমান যুগে ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পথ হিসেবে উঠে এসেছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, সামাজিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি এবং চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের এই খাতে আগ্রহী করে তুলছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সামাজিক সমস্যার সমাধান করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারছে, অন্যদিকে সমাজের জন্যও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারছে। সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষাগত সহায়তা এবং নীতিগত সমর্থন পেলে এই খাত বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান সময়ে ক্যারিয়ার বলতে শুধু চাকরি বোঝায় না। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের চিন্তাভাবনাও বদলেছে। এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী চায় এমন কিছু করতে, যেখানে নিজের ভবিষ্যৎ যেমন নিরাপদ থাকবে, তেমনি সমাজের জন্যও ইতিবাচক অবদান রাখা যাবে। এই চাহিদা থেকেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগকে ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ বলা হয়। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ধারণাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এখানে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জও বহুমুখী।

ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ বলতে কী বোঝায়

ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ মূলত এমন একটি উদ্যোক্তা কার্যক্রম, যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা হয়। এটি শুধু মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে এগিয়ে যায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, সামাজিক সচেতনতা তৈরির অ্যাপ বা ওয়েবসাইট—এসবই ডিজিটাল সামাজিক উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা কেন এই পথে আগ্রহী হচ্ছে

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউর হওয়ার আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে। প্রথমত, শিক্ষার্থীরা এখন প্রযুক্তির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ফলে ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া তাদের কাছে জটিল মনে হয় না।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছে, শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, সমাজের উন্নয়নেও তাদের ভূমিকা রাখা জরুরি।

তৃতীয়ত, চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। নিজের উদ্যোগ নিজেই তৈরি করার চিন্তা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে।

কোন বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে

গবেষণা অনুযায়ী তিনটি বিষয় ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউর হওয়ার ইচ্ছাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। প্রথমটি হলো নতুন কিছু করার মানসিকতা। যেসব শিক্ষার্থী নতুন আইডিয়া নিয়ে ভাবতে ভালোবাসে এবং প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সমাধান খুঁজতে চায়, তারা এই পথে এগিয়ে আসতে বেশি আগ্রহী।

দ্বিতীয়টি সামাজিক সচেতনতা ও উদ্যোগ। যারা সমাজের সমস্যা আগে থেকেই বুঝতে পারে এবং পরিবর্তনের জন্য নিজে থেকে কাজ করতে চায়, তারা ডিজিটাল সামাজিক উদ্যোগকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখে।

তৃতীয়টি ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা। নতুন উদ্যোগ শুরু মানেই অনিশ্চয়তা। যেসব শিক্ষার্থী হিসাব করে ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, তারা উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস দেখাতে পারে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত বড়। তরুণ জনগোষ্ঠী, দ্রুত বাড়তে থাকা ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ডিজিটাল সেবার চাহিদা—সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল সামাজিক উদ্যোগগুলো বেকারত্ব কমাতে, দক্ষতা উন্নয়নে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের করণীয়

এই খাতকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠ্যক্রমে ডিজিটাল ও সামাজিক উদ্যোক্তা বিষয়ক কোর্স অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ এবং মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা জরুরি।

নীতিনির্ধারকদের দিক থেকেও সহায়তা প্রয়োজন। সহজ ঋণ, স্টার্টআপ ফান্ড এবং নীতিগত সহায়তা শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে পারে।
ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ: কেন এটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন পথ

Key Points

ডিজিটাল সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নের সমন্বয়ে গঠিত একটি আধুনিক উদ্যোক্তা ধারণা।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা চাকরির বিকল্প হিসেবে এই খাতে ক্রমেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
নতুন কিছু করার মানসিকতা, সামাজিক সচেতনতা এবং ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করে।
বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠী ও দ্রুত বাড়তে থাকা ইন্টারনেট ব্যবহার এই খাতের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ ডিজিটাল সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।